দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। এর মাধ্যমে সেখানে টেকনোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হামাসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
ইউরোনিউজের খবরে বলা হয়, ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহর কাছ থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রায় দুই দশক ধরে উপত্যকাটি শাসন করে আসছিল হামাস। এর আগে ২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছিল সংগঠনটি।
হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-তাওয়াবতা জানান, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনসিএজি)-এর কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর সহজ করতে কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ‘বোর্ড অব পিস’ এনসিএজি গঠন করে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ‘হামাস এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে তারা আর গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে না। দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সব অজুহাত বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, হামাস সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত এবং নতুন প্রশাসনের সফলতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এনসিএজি গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেলেও ইসরায়েলের আপত্তির কারণে কমিটিটি এখনো গাজার বাইরে অবস্থান করছে।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ এগিয়ে নিতে কায়রোয় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ থাকায় দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি এখনো স্থবির রয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে হামাসের পলিটব্যুরোর সদস্যদেরও এর আওতায় এনেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সর্বশেষ সোমবার (৬ জুলাই) ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এমএস/